চাকরি করেন ১৩০ টাকা বেতনে, অবৈধ উপায়ে অর্জন করেছেন ৪৬০ কোটি টাকা

১৪ সেপ্টেম্বার ২০২১ ০৫:১২:১১
চাকরি করেন ১৩০ টাকা বেতনে, অবৈধ উপায়ে অর্জন করেছেন ৪৬০ কোটি টাকা

বিশেষ প্রতিনিধি: কক্সবাজারের টেকনাফ বন্দরে চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে ১৩০ টাকা বেতনে চাকরি শুরু করেছিল নুরুল ইসলাম। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ১০ বছরে চাকরি করে অবৈধ উপায়ে অর্জন করেছেন ৪৬০ কোটি টাকা। এসব অর্থ তিনি বন্দরে অবৈধভাবে পণ্য খালাস করে কামিয়েছেন।

 

এই অর্থ দিয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ৩৭টি বাড়ি ও জমি কিনেছেন। এছাড়া ঢাকার সাভার ও টেকনাফসহ বিভিন্ন জায়গায় কিনেছেন সম্পত্তি। র‍্যাবের একাধিক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

 

এ সময় তার কাছ থেকে ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ জাল নোট, ৩ লাখ ৮০ হাজার মিয়ানমারের মুদ্রা, নগদ ২ লাখ ১ হাজার ১৬০ টাকা ও ৪ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন।

 

তিনি জানান, নুরুল ইসলাম ইতোমধ্যে ঢাকা শহরে ৬টি বাড়ি ও ১৩টি প্লট কিনেছে। এছাড়াও সাভার, টেকনাফ, সেন্টমার্টিন, ভোলাসহ বিভিন্ন জায়গায় নামে বেনামে তার মোট ৩৭টি জমি, প্লট, বাগানবাড়ি ও বাড়ি আছে। তার অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের আনুমানিক পরিমাণ ৪৬০ কোটি টাকা।

 

র‌্যাব আরও জানায়, নুরুল ইসলামের নামে বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকে মোট ১৯টি অ্যাকাউন্ট আছে।

 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল বন্দরে কর্মরত থাকাকালীন তার অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে চোরাকারবারী, শুল্ক ফাঁকি, অবৈধ পণ্য খালাস, দালালি এসবের কৌশল রপ্ত করেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব। তার অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে তিনি বন্দরে বিভিন্ন রকম সিন্ডিকেটে যুক্ত হন। ২০০৯ সালে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। তারই আস্থাভাজন একজনকে সেই পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব আরও জানায়, নুরুল টেকনাফ বন্দর কেন্দ্রীক দালাল সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা। তার সিন্ডিকেটে ১০-১৫ জন সক্রিয় সদস্য আছে।

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন