লেখক ফরহাদ খান মারা গেছেন

০১ অক্টোবার ২০২১ ০৩:১০:১৬
লেখক ফরহাদ খান মারা গেছেন

লেখক, গবেষক ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ খান মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। আজ শুক্রবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তিনি বাংলা একাডেমির সাবেক পরিচালক।

 

বাংলা একাডেমির পরিচালক আমিনুর রহমান সুলতান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

 

তিনি বলেন, 'ফরহাদ খান দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। তার ক্যান্সারের চিকিৎসা চলছিল। কয়েকদিন আগে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোর ৪টায় মারা গেছেন।'

 

ফরহাদ খানের জন্ম ২৩ ডিসেম্বর ১৯৪৪। পৈতৃক নিবাস কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা গ্রামে। ১৯৭০ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালী কলেজে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবনের শুরু করেন। ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমিতে যোগ দিয়ে ২০০২ সালে বাংলা একাডেমির ভাষা-সাহিত্য, সংস্কৃতি ও পত্রিকা বিভাগের পরিচালকের পদ থেকে অবসর নেন।

 

১৯৮৮ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ডেপুটেশনে ডয়েচে ভেলে রেডিওর বাংলা বিভাগের সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

 

তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'প্রতীচ্য পুরাণ', 'শব্দের চালচিত্র', 'বাংলা শব্দের উৎস অভিধান', 'চিত্র ও বিচিত্র', 'হারিয়ে যাওয়া হরফের কাহিনী', 'বাঙালির বিবিধ বিলাস', 'নীল বিদ্রোহ' (যৌথ অনুবাদ), 'ব্যারন মুনশাউজেনের রোমাঞ্চকর অভিযান', 'গল্প শুধু গল্প নয়' (শিশুতোষ গল্প)।

 

একজন বেতার ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব হিসেবেও ফরহাদ খান সুপরিচিত। তিনি ১৯৬৫ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত বেতারে সংবাদ অনুবাদ ও পাঠ করেছেন। ১৯৮৬ পর্যন্ত ঢাকা বেতারের 'উত্তরণ' ও 'সংবাদ বিচিত্রা'র সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

 

বাংলাদেশ টেলিভিশনে তিনি মাতৃভাষা নিয়ে 'মোদের গরব মোদের আশা', বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে 'আহমান বাংলা' এবং 'মাতৃভাষা' অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন।

 

প্রবন্ধসাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে 'সাহিত্যিক মোহম্মদ বরকতুল্লাহ প্রবন্ধসাহিত্য পুরস্কার ২০১৯' দিয়েছেন বাংলা একাডেমি।

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন