চুয়াডাঙ্গায় চলছে বিশুদ্ধ পানির আকাল

০৬ নভেম্বার ২০১৯ ১৭:১৬:৪১
চুয়াডাঙ্গায় চলছে বিশুদ্ধ পানির আকাল

এম এইস সুজন: বলা হয়ে থাকে পানির অপর নাম জীবন। পানি ছাড়া জীবনের অস্তিত্ব কখনোই কল্পনা করা যায় না। পানি নেই বলে অন্য কোন গ্রহে জীবনের অস্তিত্ব এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। শুধু জীবন কেন, মানব সভ্যতাও গড়ে উঠেছে এই পানিকে ঘিরেই। আগেরকার দিনে পৃথিবীর সব বড় বড় শহর-বন্দর গড়ে উঠেছে নদী বা সমুদ্রকে কেন্দ্র করেই।


তাই পানি জীবনের অস্তিত্ব তৈরির পাশাপাশি গড়ে তুলেছে সভ্যতাকেও। আপনি কি কখনো ভেবেছেন যদি আপনার আশে-পাশে একদিনের জন্য পানিশূন্য হয়ে যায় তাহলে সমাজে কোন পরিস্থিতি বিরাজ করবে?

এটা যেমন কল্পনার বাইরে ঠিক তখনই 

চুয়াডাঙ্গার লাখো পরিবার বিশুদ্ধ পানির অপেক্ষায় দিন গুনছে।

বিশুদ্ধ খাবার পানি তো দুরের কথা, কল চাপলেই বেরিয়ে আসছে লালচে পানি।

পানিতে আয়রনের পরিমান এতোটাই বেশি যে পান করা সহ গৃহিণীর রান্না করা কাজেও ব্যবহার করা কঠিন।

সমস্যার শেষ এখানেই নয়।

আয়রনের সাথে আর্সেনিকের প্রভাবও পড়ছে চরমভাবে। চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকাজুড়ে এ সমস্যার শেষ নেই। তবে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা বলছেন, এলাকাটিতে পানি শোধনাগার চালু হলে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।


চুয়াডাঙ্গা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলছেন, পৌর এলাকায় ১ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে পানি শোধনাগার। ২০১৪ সালের ১২ ডিসেম্বর এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। ৩৫০ ঘন মিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এই পানি শোধনাগার নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৯ কোটি ৮২ লাখ ৫২ হাজার ৬৩০ টাকা। এটি চালু হলে ১ লাখ ৭৮ হাজার পৌরবাসীর পানির সমস্যা দূর হবে বলে মনে করেন এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তিনি আরো জানান, পাম্প চালানোর জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া গেলেই পানি শোধনাগারটির কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে চালু করা সম্ভব হবে। চলমান কাজের বর্ত্মান অগ্রগতি ব্যাপারে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আয়ুব আলী বিশ্বাস বলেন, পানি শোধনাগার থেকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে পৌর এলাকায় ৮ হাজার ৪৫০ মিটার পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। তৃতীয় নগর উন্নয়ন পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতীকরণ (সেক্টর) প্রকল্পের আওতায় এ কাজে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪২ টাকা। এছাড়া ২ কোটি ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার ৬৯১ টাকা ব্যয়ে ৬৮০ ঘন মিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ওভারহেড ট্যাঙ্ক নির্মাণ ও ৪ কোটি ২২ লাখ ৪১ হাজার ৪৬২ টাকা ব্যয়ে ৬ হাজার ৪০০টি পানির মিটার স্থাপনের কাজ চলছে। শিগগিরই তা শেষ হবে বলে আশা ব্যাক্ত করেন এই কর্মকর্তা।


চুয়াডাঙ্গা ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ময়নুদ্দিন বলেন, কুষ্টিয়া বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনা পেলেই পানি শোধনাগারে ১১ হাজার ভোল্টেজের সংযোগ দেওয়া হবে।


এ প্রসঙ্গে চুয়াডাঙ্গার পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিমত ব্যাক্ত করে বলেন, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকাটির আয়রন আর আর্সেনিকের প্রবনটা অনেকটাই বেশি। যা আমাদের ধারনার বাইরে। যার ফলে বিশুদ্ধ পানি সংকট নিত্যদিনের সাথী। তবে শোধনাগারটি চালু হলে অচিরেই সমাধান হবে পৌর এলাকার পানির সমস্যা।

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন