বিফলতা সফলতার কাছে পৌঁছে দেয়

০৫ জানুয়ারী ২০২০ ০৪:২৭:২৬
বিফলতা সফলতার কাছে পৌঁছে দেয়

মো. তরিকুল ইসলাম। বর্তমান সরকারেরর নিরাপদ পান উৎপাদন প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন। নিজ পেশায় সফল তরিকুল ইসলাম ১৯৯৪ সালে কুষ্টিয়া জেলা স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৯৬ সালে এইচএসসি এরপর ২০০৪ সালে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েট হন। তারপর বিসিএসে যোগদান করেন। উত্তরাধিকারসূত্রে সরকারি চাকরির প্রতি আকর্ষণ বোধ করতেন তিনি। সেখান থেকেই বিসিএসের প্রতি আগ্রহ। বিসিএসের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছিলেন স্নাতক শেষ হওয়ার আগেই। তখন থেকেই চিন্তা ছিল আন্তর্জাতিক মানের ক্যারিয়ার গড়ার। নিজের স্বপ্ন পূরণের কিভাবে সফল হলেন সেটি জানতে মুখোমুখি হন প্রজন্ম প্রেরণার এই পথিকৃৎ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আব্দুর রব। 

আপনার ক্যারিয়ারের শুরুর গল্পটি জানতে চাই?

তরিকুল ইসলাম: বাবা যেহেতু সরকারি চাকরি করে সেহেতু সরকারি চাকরির প্রতি একটা আলাদা আকর্ষণ ছিলো। সেখান থেকেই বিসিএস এর প্রতি আগ্রহ। আমাদের ফাইনাল পরীক্ষার পর ফলাফলের আগেই ২৫ তম বিসিএস এর সার্কুলার আসে। তখন বিসিএস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। ঐ বিসিএস-এ চাকরিটা হয়ে গেল। ক্যারিয়ারের বিষয়টা তখন আমার মনে হয়েছিল যে, একজন সরকারি চাকুরিজীবী হিসেবে আমার ক্যারিয়ারটা তৈরি করব। যাতে করে একটা আন্তর্জাতিক মানের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারি। ক্যারিয়ার গড়ে তোলার যে মূল বিষয় সেটা ক্যাম্পাসের বড় ভাইদের দেখে তৈরি হয়। কারন তারা সিভিল সার্ভিসে ছিল। কাজ করার স্বাধিনতা, দেশের জন্য কাজ করা এই জিনিস আমার ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে কাজে দিয়েছিল।

ক্যারিয়ার বিষয়ক জীবন ঘনিষ্ঠ কোন অভিজ্ঞতা?

তরিকুল ইসলাম: আমাদের ক্যাম্পাসে একজন বড় ভাই ছিল। তিনি তার গ্রাজুয়েশন শেষ করার আগেই চাকরিতে ঢুকে পড়ছিলেন। গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পরে উনার সাথে আমার কুষ্টিয়াতে পরিচয়। তিনি একজন বিসিএস কর্মকর্তা ছিলেন। গ্রাজুয়েশন শেষ করে আমি তার জীবন যাপন অনুসরণ করতাম। তিনি আমাকে উৎসাহ যোগাতো। নিজের ক্যারিয়ারের প্রতি কিভাবে আরও বেশি মনোযোগী হওয়া যায় উনার দেখে শিখেছিলাম। অনেকগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা আমাকে এই যায়গায় নিয়ে আসতে সহযোগিতা করেছে। 

চাকরি প্রত্যাশীদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলতেন?

তরিকুল ইসলাম : নিজেকে তৈরি করতে হবে এবং নিজের স্বপ্নটা ধারণ করতে হবে। আমরা সব সময় সকলকে সাফল্যের গল্পটা বলি বা পড়িয়ে থাকি। একবার মানুষ সফল হওয়ার পেছনে তার ৯৯ বার বিফলতার গল্প থাকে। আমরা সেই বিফলতার গল্পটা জানি না। যার কারনে আমরা ভাবি আমাদের পাশের যে সফল মানুষগুলো আছে তারা কত সফল। কিন্তু শুধুমাত্র সেই সফল মানুষটি জানে তার এই সফলতার পেছনে এক হাজার বিফলতার গল্প রয়েছে। যারা চাকরি প্রত্যাশী তাদের উদ্যেশে আমি একটা কথায় বলব। সফলতার গল্প কিন্তু একটা দুইটা। কিন্তু হাজার হাজার বিফলতার গল্প আছে। সেই বিফলতার গল্পগুলোই তার সফল হওয়ার জন্য কাজ করবে। এজন্য তাদের উদ্যেশে বলব বিফল যত বেশি হবে তার মনে রাখতে হবে সে সফল হওয়ার পথে খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। বিফলতা সফলতার কাছে পৌঁছে দেয়।

কৃষিতে ক্যারিয়ার গড়ার সম্ভাবনা কতটুকু?

তরিকুল ইসলাম :কৃষি নিয়ে যদি কেউ ক্যারিয়ার গড়তে চাই তার জন্য অনেক পথ খোলা। সেজন্য প্রথমে লেখা পড়া শেষ করে আগে নিজেকে বুঝতে হবে। আমার আগ্রহ আসলে কোথায়। আমাদের সবাই তো সমাজ দ্বারা প্রভাবিত। যেহেতু সবাই বলছে বিসিএস দাও। কিন্তু আমি বলব সেটা না। মানুষ যদি কৃষিতে ক্যারিয়ার গড়তে চাই তার আগে ভাবতে হবে তার মনের মধ্যে কি কাজ করছে। আমি আসলে কোন লাইনে ভালো করব সেটা আগে বোঝা। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে। আমি কোন জায়গাতে কমফোর্ট ফিল করছি সেই অনুযায়ী ক্যারিয়ার গড়তে হবে। কেউ ক্যারিয়ার গড়তে চাই তাহলে কৃষি নিয়ে যারা পড়াশোনা করবে তারা যেকোন সেক্টরে চাকরি করতে পারবে বলে আমি মনে করি।


মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন