টেস্ট ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমানো উচিৎ নয়

০৫ জানুয়ারী ২০২০ ১১:৫৭:৩৩
টেস্ট ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমানো উচিৎ নয়

ক্রিড়া ডেস্ক: পুরনো বছরের শেষ দিকে বড়সড় এক দুঃসংবাদই পেয়েছিলেন ক্রিকেটের অভিজাত ফরম্যাট টেস্ট ক্রিকেটের একনিষ্ঠ ভক্তরা। যাদের কাছে ক্রিকেটের সেরা রূপই হলো পাঁচদিনের টেস্ট, তাদের রীতিমতো দুঃসংবাদ দিয়ে আইসিসি জানিয়েছিল টেস্ট ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমিয়ে আনা হবে চারদিনে।

যেটি বাস্তবায়িত হতে পারে ২০২৩ সালের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মধ্য দিয়ে এবং প্রথম দফায় চলবে ২০৩১ সালের চক্র পর্যন্ত। তবে এর আগে পরীক্ষামূলকভাবে বেশ কিছু চারদিনের টেস্ট আয়োজনের কথাও ভাবা হয়েছে। তবে এ ভাবনার ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে ভেটো দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান টেস্ট অধিনায়ক টিম পেইন।

এবার তারই সুরে কথা বললেন ভারতের তিন ফরম্যাটের অধিনায়ক বিরাট কোহলিও। বর্তমান সময়ের সেরা এ ক্রিকেটারের মতে, টেস্টের দৈর্ঘ্য কমিয়ে চার দিনে আনা হলে, সেটি হবে ক্রিকেটের পবিত্র ফরম্যাটের প্রতি অন্যায়। তাই কখনওই এমন সিদ্ধান্তে নিজের সমর্থন নেই বলে জানান ভারতীয় অধিনায়ক।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে চারদিনের টেস্ট বিষয়ক প্রশ্ন উঠে আসলে কোহলি বলেন, ‘চারদিনের টেস্ট? দেখুন, আমি মোটেও এমন কিছুর ভক্ত নই আমি মোটে করি এমন ভাবনাটাও ঠিক নয়। কারণ, এরপর হয়তো তিনদিনের টেস্টের কথা বলা হবে। তারপর এর সমাপ্তি কোথায়? দেখা যাবে, তখন বলা হবে টেস্ট ক্রিকেট বাতিলই করে দেয়া হোক। আমি মোটেও এর পক্ষে নই।’

এসময় চারদিনের টেস্টের ভাবনাকে ক্রিকেটের পবিত্র ফরম্যাটের প্রতি অন্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন কোহলি। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না, ক্রিকেটের পবিত্র ফরম্যাটের প্রতি কোনো ন্যায়বিচার হবে এটি। শুরুতে যেভাবে ক্রিকেট এসেছে, পাঁচদিনের ক্রিকেটই মূলত এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আপনার সর্বোচ্চ পরীক্ষার মঞ্চ। আমার মতে, টেস্ট ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমানো উচিৎ নয়।’ এর আগে ২০১৮ সালে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের ১০০ বলের ক্রিকেটের ব্যাপারেও ভেটো দিয়েছিলেন কোহলি। ক্রিকেটের এমন বাণিজ্যিক রূপ দেখে খানিক ব্যথিতই হয়েছিলেন তিনি। দুই বছর পরেও একই সুর কোহলির কণ্ঠে। এসময় বাণিজ্যিকীকরণের জন্য সর্বোচ্চ দিবারাত্রির টেস্টের আয়োজন করার পরামর্শই দেন তিনি।

কোহলি বলেন, ‘ইংল্যান্ডের ১০০ বলের ক্রিকেটের ব্যাপারে আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। আমি তখন বলে দিয়েছিলাম যে, নতুন আরেকটা ফরম্যাটে নিজেকে নামাতে চাই না। টেস্ট ক্রিকেটেও আমি মনে করি না (পরিবর্তন দরকার আছে)। যদি কিছু পরিবর্তন করতেই হয়, তাহলে আমি বলবো দিবারাত্রির ক্রিকেটে বিনিয়োগ করার কথা। আমার মতে, তখনই একমাত্র আপনি দর্শক বৃদ্ধি বা বিনোদনের ব্যবস্থা করতে পারবেন।’

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন