নানা ধরণের অসুবিধা ট্রাফিক পুলিশে

১২ জানুয়ারী ২০২০ ১৫:৩৮:৫৪
নানা ধরণের অসুবিধা ট্রাফিক পুলিশে

আব্দুর রব: বছরের প্রতিটা দিনই ধুলোবালি রোদ-বৃষ্টি আর শব্দদূষণ ভোগ করেই কাটে ট্রাফিক পুলিশের। অপ্রীতিকর অবস্থায় দিনকাটে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের। শুধু রাজধানীর সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করছেন প্রায় সাড়ে তিন হাজার ট্রফিক পুলিশ সদস্য। মৃত্যুঝুঁকি নিয়েই তাদের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। দিন-রাত রাস্তায় দায়িত্ব করার কারণে বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছে তারা। এসব সমস্যার মধ্যে যেমন; শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা, এলার্জি, কিডনীর সমস্যার মতো ভায়াবহ রোগে ভুগছে অনেক ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। সড়কে যানবাহনের হর্নের বিকট শব্দের কারণে কানের সমস্যাতে ভোগেন অনেক ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। ট্রাফিক আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনতে আছে নানা রকম বাধাবিঘ্ন। চালক ও পথচারীরা বেশির ভাগেরই রয়েছে আইন না মানার একপেশে ভাব। আইন মানাতে গেলেই নিয়মিত নানা ধরনের হুমকি-ধামকির মুখে পড়তে হয় ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের। এসব হুমকি-ধামকি উপেক্ষা করেই দায়িত্ব পালন করেন তারা।

রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তাদের দুঃখ-কষ্টের নানা রকম কথা।

জানা গেছে, ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল ও সার্জেন্টদের দিনে ৮ ঘণ্টা দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও ১৫-১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করেন তারা। তাদের নেই কোনো ছুটি। নেই কোন পদোন্নতি  দুর্ঘটনাসহ নানা ঝুঁকির মধ্যে ব্যস্ততম সড়কে কাজ করেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। এর পরও তাদেরই যানজটের জন্য সাধারণ মানুষের গালিগালাজ শুনতে হয়। আবার কাগজপত্রসহ নানা কারণে যানবাহন আটকালে শুরু হয়ে যায় তদবির। প্রভাবশালীরা আইনকানুনের তোয়াক্কা করেন কমই। অনেকে আবার চাকরি খাওয়ারও হুমকি দেন।


রাজধানীর শ্যামলী স্কয়রের একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট ইতিহাস প্রতিদিনকে জানান, আমরা রাস্তায় ডিউটি করি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। রাস্তার ধুলোবালির মধ্যেই দায়িত্ব পালন করতে হয়। শ্বাসকষ্ট হচ্ছে রাতে ঘুমাতে পারিনা। হর্নের শব্দে দায়িত্ব পালন করতে অনেক কষ্ট হয়। বৃষ্টির পানিতে ভিজে অনেক সময় থাকতে হয়। কিন্তু তারপরেও এটা আমার দায়িত্ব।  আমি দীর্ঘ ২৩ বছর এই শ্যামলীর সড়কে দায়িত্ব পালন করছি। বছরের পাওনা বিশ দিন ছুটিও ঠিকমত কাটানো যায় না। আমি চাই ধুলোবালি মুক্ত সড়ক। আমার কাঙ্খিত চাওয়া হচ্ছে নিজেস্ব বিভাগে বদলী হওয়া।

 

খামারবাড়ির বঙ্গবন্ধু চত্বরে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট ইতিহাস প্রতিদিনকে জানান, রোদ-বৃষ্টি, ধুলোবালি, গাড়ির ধোঁয়া, হর্নের শব্দ সবকিছু সহ্য করে সড়কে দায়িত্ব পালন করতে হয়। বেশির ভাগ মানুষই ট্রাফিক সিগন্যাল মানতে চায় না। আমাদের সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় তদবিরে। জরিমানা করলে ফোন ধরিয়ে দেয় উপরমহলে। তাদের কথা না শুনলে নানা ধরনের হুমকি-ধামকি খেতে হয় উপরমহল থেকে। এমনকি বদলিও হতে হয়। ট্রাফিকে দায়িত্ব পালনকালে নারীদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়। কারণ কোনো ট্রাফিক বক্সে টয়লেট সুবিধা নেই। আশপাশের অফিস বা মার্কেটে গিয়ে তাদের বাথরুম সেরে আসতে হয়। রাস্তার ধুলোবালিতে শুধু পোশাকই মলিন হয় না, রোদ, গরম, গাড়ির ধোঁয়া, হর্ন ইত্যাদি কারণে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক জটিলতায় ভোগেন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা।

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন